বগুড়ায় দাম বেড়েছে খেজুরের

ডেস্ক রিপোর্ট :
বগুড়ায় রমজান ঘিরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে খেজুরের দাম। খেজুরের বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হলেও প্রশাসন থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

রোজা এলেই বাড়ে শুকনো ফল খেজুরের চাহিদা। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এই খাদ্য পণ্যটির দাম বাড়িয়ে দেয় অসাধু ব্যবসায়ীরা। এজন্য তারা নানা অজুহাতও দাঁড় করায়। এসব খেজুর কিনতে গিয়ে নাম আর মানের পাশাপাশি এবার দাম শুনেও কপালে ভাঁজ পড়ছে ক্রেতাদের।

বগুড়া শহরের ফতেহ আলী বাজার, রাজাবাজার, কলোনী বাজার, খান্দার বাজার, কাঁঠালতলা, স্টেশন সড়কের ঘুরে দেখা যায়, খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রকারভেদে প্রতি কেজি খেজুর বিক্রি করছেন ১৩০ টাকা থেকে ৫৬০ টাকা পর্যন্ত। যা গত সপ্তাহের তুলনায় কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। বড়ি ও দাবাস খেজুর বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা।

খেজুরের খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, রজমান মাসের কারণে এবং আমদানি কম হওয়ায় হঠাৎ বাজারে খেজুরের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহে যে খেজুর ১০ কেজির বস্তা ছিল ২ হাজার ৩০০ টাকা। বর্তমান বাজারে সেটি বেড়ে দুই হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে।

বগুড়া শহরের স্টেশন সড়ক এলাকার খুচরা ব্যবসায়ী মোঃ টুটুল মিয়া জানান, রোজার আগে খেজুরের দাম হঠাৎ কেজি প্রতি ৪০-৫০ টাকা বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার বস্তা প্রতি দাম বেড়েছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।

বগুড়ার খেজুর আড়ৎদাররা বলছেন, আমদানি সংকটের কারণে সব জায়গায় দাম বেড়েছে। প্রকার ভেদে প্রতি কেজি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা থেকে থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামে। তবে একেক বিক্রেতা একেক দামে বিক্রি করছে খেজুর।

খেজুর কিনতে আসা শহরের কলোনি এলাকার মোঃ সহিদুল ইসলাম জানান, বাজারে খেজুর কিনতে এসেছি। কিন্ত এসে দেখি দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে দাম অনেকটা কম ছিল। ১ কেজি দাবাস খেজুর কিনতে হলো ২৭০ টাকায়। যা আগে ছিল ২৩০ টাকা। রমজান মাস আসলেই নিত্যপণ্যসহ সব ধরনের জিনিসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে না থাকলে আমাদের মত সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ পরিবার নিয়ে হিমশিম খেতে হয়।

বগুড়া স্টেশন সড়কের মেসার্স মুন ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী ও বগুড়া ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুলফিকার আনাম তুষার জানান, ডলারের বাড়তি দাম আর আমদানি সংকটের কারণে খেজুরের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। পাইকারি বাজারে ইরাকি বস্তা খেজুর প্রতি ৩০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৩০০ টাকা। দুবাইয়ের ইরাুক জাহিদি জাতের খেজুর ১০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০টাকা। যা গত বছরে ছিল ১ হাজার ১০০টাকা। দাবাস এবং লুলু জাতের খেজুর ১০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০টাকা। যা গত বছরে ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা। মরিয়ম জাতের খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৫ কেজির বস্তা ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০টাকা। যা গত বছরে ছিল ৩ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা। খালাস ও নাগাল জাতের খেজুরের দাম বেড়েছে। এছাড়াও সৌদি আরবের মাসরুক ও সাফাই জাতের খেজুর পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

এটিভি বাংলা / হৃদয়


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *