উদ্বোধনের অপেক্ষায় কালনা সেতু ও শীতলক্ষ্যা সেতু

ডেস্ক রিপোর্ট :
উদ্বোধনের অপেক্ষায় গোপালগঞ্জের দৃষ্টিনন্দন কালনা সেতু ও নারায়ণগঞ্জের তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু। সোমবার (১০ অক্টোবর) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতু দুটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যার ওপর দৃষ্টিনন্দন নাসিম ওসমান তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু। ৬ লেনের এ সেতুটির দৈর্ঘ্য ১ দশমিক দুই নয় কিলোমিটার আর প্রস্থ ২২ দশমিক এক পাঁচ মিটার। ওয়াকওয়েসহ সেতুতে রয়েছে ৩৮টি স্প্যান। নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৬০৮ কোটি টাকারও বেশি। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।
উদ্বোধনের পরপরই জনসাধারণের জন্য সেতুটি খুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ।কাঙ্ক্ষিত এই তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু চালু হলে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলবে বলে মনে করছেন নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে গার্মেন্টসহ অন্যান্য শিল্পপণ্য খুব সহজে চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় দ্রুত পৌঁছে যাবে। এছাড়া শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে কমবে ভয়াবহ যানজট। পাশাপাশি শীতলক্ষ্যা নদী পাড়ি দিতে গিয়ে ট্রলার ও নৌকা দুর্ঘটনা কমে যাবে।সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, সেতুটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক ইত্যাদি থেকে খুলনা, যশোর, বেনাপোল, মংলা, বরিশাল এবং অন্যান্য স্থানে যাতায়াতের জন্য মদনগঞ্জ-সৈয়দপুর-মুক্তারপুর, মুন্সীগঞ্জ-টঙ্গীবাড়ী-লৌহজং ও মাওয়া হয়ে মোগরাপাড়া, মদনপুর, কাঁচপুর ও ডেমরাকে সংযুক্ত করবে। সেতুটি চালু হলে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সঙ্গেও যোগাযোগ সহজ হবে। তখন দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের যানবাহনগুলোকে নারায়ণগঞ্জ শহরে না ঢুকে মদনপুর হয়ে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া দিয়ে পদ্মা সেতু পার হতে পারবে।
একইভাবে পদ্মা সেতু হয়ে আসা যানবাহনগুলো তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু পার হয়ে মদনপুর দিয়ে দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে যেতে পারবে। এছাড়া ছয় লেনের তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু নারায়ণগঞ্জ শহরকে বন্দর উপজেলার সাথে সংযুক্ত করার মাধ্যমে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।সেতুটির প্রকল্প পরিচালক শোয়েব আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, ১.২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্যে চলাচলকারী যানবাহনগুলো নারায়ণগঞ্জ শহরকে বাইপাস করতে পারবে। যানজট এড়াতে ও সময় বাঁচাতে সক্ষম হবে।তিনি জানান, শীতলক্ষ্যা সেতু চালু হলে পঞ্চবটি বিসিক শিল্প এলাকা, পঞ্চবটি মোড়, চাষাঢ়া মোড়, সাইনবোর্ড, নারায়ণগঞ্জের চট্টগ্রাম সড়ক বা ঢাকার পোস্তগোলা ও শনির আখড়া রুটে যানবাহনকে তীব্র যানজটের সম্মুখীন হতে হবে না। যানবাহনগুলো রাজধানীর পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ শহরকে বাইপাস করতে পারবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জ শহরের ওপর যানবাহনের চাপও কমবে।এদিকে বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার যৌথ অর্থায়নে নির্মিত দেশের প্রথম ছয় লেনের কালনা তথা মধুমতি সেতুর দ্বার খুলতে আর একদিন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটি উদ্বোধন করবেন। এ খবরে আনন্দিত নড়াইল, যশোর, বেনাপোল, খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষ। মধুমতি সেতু উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও পূরণ হবে।
নড়াইল ও গোপালগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী কালনাঘাট এলাকায় নির্মিত কালনা তথা মধুমতি সেতু উদ্বোধনের খবরে উচ্ছ্বসিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষ। এখন অপেক্ষার ক্ষণ গুনছেন যাত্রীসাধারণ, যানবাহন চালকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। সোমবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী মধুমতি সেতুর উদ্বোধন করবেন।প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান জানান, ৯৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কালনা সেতু চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারাদেশের সাথে বেনাপোল বন্দরের যোগাযোগ সহজ হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলার মানুষের আন্তঃযোগাযোগও উন্নত হবে।

এটিভি বাংলা / হৃদয়


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *