কনের বয়স ১৯, বরের ১৫!

ডেস্ক রিপোর্ট : 
প্রেমের পর বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক। কিন্তু শেষে প্রেমিক জানায়, তার পক্ষে বিয়ে করা সম্ভব নয়। কারণ, তিনি সাবালক নন। তার বয়স সবে ১৫!

এরপর বিয়ের দাবিতে ১৯ বছরের তরুণী প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেন। তারপর নানান ঘটনার জন্ম দিয়ে গ্রাম্য সালিশে গভীর রাতে চারজনের সাক্ষীতে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দেনমোহরে বিয়ে দেওয়া হলো দুইজনের।

এভাবেই রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ১৫ বছরের প্রেমিকের সঙ্গে ১৯ বছরের প্রেমিকার বিয়ে হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার মধ্যরাতের পর উপজেলার বেলপুকুর ইউনিয়নে ওই বিয়ে পড়ানো হয়। ঘটনাটি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পাশাপাশি দুই ইউনিয়ন বানেশ্বর ও পুঠিয়ার।

কনে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের ভাড়রা গ্রামের। আর বর বেলপুকুর ইউনিয়নের বেলপুকুর থানাধীন (আরএমপি) চক ধাদাশ গ্রামের লতিফুরের ছেলে সিজানুর রহমান।

তরুণীর খালার বাড়ি চক ধাদাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে। সেখানে বেড়াতে এলে তরুণীকে দেখে পছন্দ হয় সিজানের। এরপর শুরু হয় ঘটনা। মোবাইল নম্বর জোগাড় করে তরুণীকে ফোন দেয় সিজান। কথা চলতে চলতে তাদের প্রেম এই গভীরতায় পৌঁছে।

তরুণী জানান, সাড়ে তিন বছরের সম্পর্ক তাদের। বিয়ে করবে বলে অনেকবার শারীরিক সম্পর্কে জড়ায় সিজান। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে কৌশলে সটকে পড়ার চেষ্টা করে সে। তরুণী উপায় না দেখে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সিজানের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন।

খবর পেয়ে বেলপুকুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে কিছু ঘণ্টাখানেক অবস্থান নিয়ে চলে যায়। রাত আড়াইটার পর স্থানীয়ভাবে সালিশ বসেন দুইপক্ষের ৫ জন করে মোট ১০ জন। পরে বেলপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের দুই নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য লতিফুল সিদ্ধান্ত জানান।

তিনি বলেন, ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেনমোহরের মাধ্যমে এই বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিয়ের চারজন সাক্ষী ও স্থানীয়দের সইয়ের মাধ্যমে বিয়ের কাজ শেষ হয়।

পুঠিয়ার বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অবস্থানের কথা জানতে পেরে থানা থেকে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। দুই পক্ষকে থানায় ডাকাও হয়েছিল। কিন্তু রাতে কেউই আর থানায় আসেনি। পরে কী হয়েছে জানা নেই। তবে এমন কোনো ঘটনা থাকলে তা জেনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এটিভি বাংলা / হৃদয়


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *