কানাডায় মায়ের কাছে ফেরা হলো না হিশামের

ডেস্ক রিপোর্ট :
এসএসসি পরীক্ষার পর কানাডায় মায়ের কাছে যাওয়া হলো না হিশামের। আর অ্যান্ড জে কোচিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা চার বন্ধুর সঙ্গে সেদিন বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল জিসানের বোন জেসিরও। তাদের সঙ্গে না যাওয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও ভাই হারানোর শোকে কাতর তিনি।

হিশামের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে পড়ার টেবিলের সামনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন চাচা আকবর হোসেন। ছোট বেলা থেকে যাকে মানুষ করেছেন, তার এভাবে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যাওয়া কোনো ভাবেই মানতে পারছেন না তিনি।

এসএসসি পরীক্ষার পরই কানাডায় মায়ের কাছে ফেরার কথা ছিল হিশামের। ঘরের ছোট হিসেবে ছিল খুব আদরের। বর্তমানে বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল সব রয়েছে আগের মতোই। কিন্তু হিশামের আর ঘরে ফেরা হয়নি।
তিন মাস আগে জিসান, সজীব, রিদোয়ান মিলেই শুরু করেছিল আর অ্যান্ড জে কোচিং সেন্টারটি। কোচিংয়ে পড়াত ওয়াহিদুল আলম জিসানের বোন জেসি আক্তারও। ফোর এইচ গ্রুপে জিসান শুরু করেছিল নতুন চাকরি। স্বপ্ন ছিল পরিবারের হাল ধরার। ঘটনার দিন কোচিংয়ের সব শিক্ষক বেড়াতে গেলেও ভাগ্যক্রমে সেদিন যাননি জিসানের বোন। এতেই বেঁচে যায় তার জীবন। নিজের জীবন রক্ষা পেলেও ভাইকে এভাবে হারিয়ে ফেলা কোনোভাবেই মানতে পারছেন না জিসানের বোন।

এদিকে আর অ্যান্ড জে কোচিংয়ের আরেক শিক্ষক সজীবের মৃত্যু কোনোভাবেই ভুলতে পারছে না তার ছোট ভাই তৌসিফ। ভাইয়ের কবরের সামনে অপলক তাকিয়ে সারাদিন পর করছে সে।

শুধু তৌসিফ নয়, এসএসসি পরীক্ষার্থী মারুফের চলে যাওয়াও যেন কোনোভাবেই মানতে পারছে না ছোট ভাই শাহরুখ। রোববার সকাল থেকে সেও বসে ছিল ভাইয়ের কবরের সামনে।

শুক্রবার (২৯ জুলাই) মীরসরাই খৈয়াছড়া ঝর্নায় বেড়ায় গিয়েছিলেন ছাত্র-শিক্ষকরা। ফেরার পথে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মহানগর প্রভাতীর সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়। এ দুর্ঘটনায় মারা যান ১১ জন।

এটিভি বাংলা / হৃদয়


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *