ডেস্ক রিপোর্ট :
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কের ঘোষণার ফলে দেশের সব জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদ থমাস ব্রিজেস। বুধবার তিনি সতর্ক করেন, এই পদক্ষেপ, বিগত কয়েক দশকে, বিশ্ববানিজ্যে অ্যামেরিকার অর্জনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এছাড়া, অর্থনীতিবিদ মার্ক য্যান্ডি বলেন, ‘শুল্কযুদ্ধ’ কোরে অ্যামেরিকা জিতবে না। কারণ দেশের সাধারণ ভোক্তাদের বাড়তি খরচের বোঝা টানতে হবে।
দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউযে এসেই বাণিজ্য যুদ্ধকে পুরোদমে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এরই ধারাবাহিকতায়, বুধবার সবদেশের জন্য ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্কের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ওপর বর্ধিত হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
ডেলাওয়্যার ইউনিভার্সিটির লার্নার কলেজ অফ বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্সের সহকারী অধ্যাপক থমাস ব্রিজেস বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির ভিত্তিই হচ্ছে অবাধ বাণিজ্য। তাই দীর্ঘমেয়াদে এই শুল্কযুদ্ধ অ্যামেরিকাসহ সারা বিশ্বেই গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম এই ভোক্তা অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এই শুল্কযুদ্ধ। যা বিশ্ববানিজ্যে অ্যামেরিকার বিগত কয়েক দশকের অর্জনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে সতর্ক করেন ব্রিজেস।
ব্রিজেস মন্তব্য করেন, দেশের শীর্ষ বাণিজ্য পার্টনারদের ওপর ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করা হলে জিনিসপত্রের দাম বাড়বেই। যেমন, তাইওয়ান থেকে অ্যামেরিকা প্রচুর পরিমাণে মাইক্রোচিপ আমদানি করে, তাই প্রযুক্তিপণ্য আর সেবার দাম বেড়ে যেতে পারে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ‘মুডি’য অ্যানালিটিক্স’ এর প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক য্যান্ডি এমএসএনবিসিকে বলেন, পাল্টাপাল্টি শুল্ক দিয়ে কোনো দেশই জিততে পারে না। শেষ পর্যন্ত, দেশের সাধারণ ভোক্তাদের ওপরেই করের বোঝা এসে পড়বে বলে জানান তিনি। করপোরেট মুনাফার ওপরেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য করেন য্যান্ডি।
এই প্রসঙ্গে, সাবেক অ্যামেরিকান ট্রেড রেপ্রেযেন্টেটিভ মাইকেল ফ্রোম্যান বলেন, সামনের দিনগুলোতে কর্মসংস্থান একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে, কারণ রপ্তানি শিল্পের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে পাল্টা শুল্ক আরোপের এই পদক্ষেপ।
এটিভি বাংলা / হৃদয়
Leave a Reply