ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রভাবে বিশ্ববাণিজ্যে আংশিক ধসের আশঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট :
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত উচ্চহারের বাণিজ্য শুল্কের জবাবে অন্য দেশগুলোও একই রকম পাল্টা ব্যবস্থা নিলে, বিশ্ব বাণিজ্যে আংশিক ধস নামার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা। এরইমধ্যে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ, এমনকি প্রতিবেশী ক্যানাডাও অ্যামেরিকার বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি, সেই আশঙ্কাই বাড়িয়ে দিয়েছে। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার চেয়েছিলে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেন বৃটেইনকে তার নতুন শুল্কনীতির আওতার বাইরে রাখেন। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হোয়াইট হাউযে তার বৈঠকে এ নিয়ে কিছুটা আশার আলোও দেখা গিয়েছিল।

তবে, এখন ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক থেকে কোনো দেশই রেহাই পাবে না। একটি নতুন গবেষণা বলছে, যদি সব দেশ পাল্টা ব্যবস্থা নেয়, তাহলে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

ট্রাম্প যে মাত্রার শুল্ক আরোপের কথা বলছেন, এর আগে ১৯৩০ এর দশকে অ্যামেরিকার এমন শুল্ক বিশ্বব্যাপী মহামন্দাকে ত্বরান্বিত করেছিল। তবে এই অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, সে ধরনের ঘটনা আবার ঘটবে কিনা তা অনেকটাই নির্ভর করছে ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি স্থায়ী হবে নাকি এটি তার একটি কৌশলগত হাতিয়ার তার উপর।

বৃটেইনের কমার্স সেক্রেটারি জনাথন রেনল্ডস আশা করছিলেন, বৃটেইন ট্রাম্পের ২ এপ্রিলের শুল্ক থেকে রেহাই পাবে। ক্যাবিনেটের সদস্যদের জানানো হয়েছে- তা ঘটবে না। ট্রাম্পের পদক্ষেপ নিয়ে শঙ্কিত বৃটেইনের ঔষধ শিল্পের মতো খাতগুলো, কারণ তাদের বেশিরভাগ মুনাফা অ্যামেরিকা থেকে হয়।

তবে বৃটেইনের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের প্রধানরা বলছেন, তারা অ্যামেরিকার শুল্কের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা চান না। কিয়ার স্টারমারও তাঁর ক্যাবিনেটকে ইঙ্গিত দিয়েছেন, বৃটেইনের পরিকল্পনায় তা নেই। তবে, এ বিষয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অবস্থান ভিন্ন।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানরা এরইমধ্যে, অ্যামেরিকার বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন। জার্মানির পরবর্তী চ্যান্সেলর ফ্রিডরিক মার্যের মতে, ওয়াশিংটনের সাথে তাদের প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য সম্পর্ক ভেঙে পড়ছে। ক্যানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, অ্যামেরিকার সঙ্গে তাদের আগের সামরিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব শেষ হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে বড় ধরনের বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা, সেন্টার ফর নিউ অ্যামেরিকান সোসাইটির ডিরেক্টর এমিলি কিলক্রিয বলেন- ট্রাম্পের শুল্কনীতি অংশীদারদের সঙ্গে দরকষাকষির কৌশল হলে, সেটাই হবে সবার জন্য মঙ্গলকর।

অন্যদিকে, ভারতীয় অর্থনীতিবিদ এবং বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ আমির উল্লাহ খান মনে করেন, ট্রাম্পের নতুন শিল্পনীতি অনুযায়ী, ভারতের ডযনেরও বেশি শিল্পপণ্যে পাঁচ শতাংশ থেকে ১২২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের আশঙ্কা আছে। যা নিয়ে এখন ব্যাপক চাপে পড়েছে ভারতের সরকার।

শুল্ক কমাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবেন বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ। এদিকে, মঙ্গলবার হোয়াইট হাউযের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সেক্রেটারি কারিন জন পিয়ের, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে প্রশংসা করেন।

কারিন দাবি করেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে দেশের শিল্প খাতের সক্ষমতা বাড়াবে। বুধবার ইস্টার্ন সময় বিকাল ৪টায়, হোয়াইট হাউযের রোয গার্ডেনে ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে তার নতুন শুল্ক পরিকল্পনা প্রকাশ করবেন।

এটিভি বাংলা / হৃদয়


Posted

in

,

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *