সাকিব নৈপুন্যে শীর্ষে বরিশাল

খেলাধুলা ডেস্ক:

বিপিএলে সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত ব্যাটিং-বোলিংয়ে চট্টগ্রামকে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে গেলে বরিশাল। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ফিফটির পর বল হাতে ৩ উইকেট নিয়েছেন সাকিব।

মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ১৪ রানের জয় পেয়েছে বরিশাল। আগে ব্যাট করে চট্টগ্রামের সামনে ১৪৯ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল তারা। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে অলআউট হওয়ার আগে ১৩৫ রানের বেশি করতে পারেনি নাঈম ইসলামের দল।

এই নিয়ে ৬ ম্যাচে চতুর্থ জয় পাওয়া বরিশাল ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে এলো। আর এক ম্যাচ বেশি খেলা চট্টগ্রাম ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দুই থেকে নেমে গেল চারে।
এই ম্যাচে বরিশালের জয়ের নায়ক নিঃসন্দেহে সাকিব আল হাসান। তার ফিফটিতে ভর করেই সম্মানজনক সংগ্রহ পায় বরিশাল। পরে বল হাতে নেন ৩ উইকেট। সেই সঙ্গে অধিনায়ক হিসেবে বিপিএলে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শও করেন এই বাঁহাতি স্পিনার।

টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামা বরিশালের শুরুটা ভালো হয়নি। ২ বলে ১ রান করে আউট হয়ে যান ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার। ১৯ বলে ২৫ রান আসে ক্রিস গেইলের ব্যাট থেকে। তিনে খেলতে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত ২৯ বলে ২৮ রান করে আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে আউট হন।

বরিশালের হয়ে ঝড় তুলেন সাকিব আল হাসান। ৩ ছক্কা ও সমান সংখ্যক চারে ৩১ বলে ৫০ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি। শেষদিকে বরিশালের ইনিংসে আঘাত হানেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। এই পেসারের বোলিং তোপে ১৪৯ রানের বেশি করতে পারেনি চট্টগ্রাম। ২ ওভারে ১২ রান দিয়ে চার উইকেট নেন তিনি।

পরে লক্ষ্য তাড়ায় নেমে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই আফগান স্পিনার মুজিব-উর-রহমানের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন চট্টগ্রামের ওপেনার উইল জ্যাকস। এরপর আফিফ হোসেন ও শামিম হোসেন মিলে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করে ৭০ রানের জুটি গড়ে ফেলেন। ৩২ বলে ৩৯ রান করা আফিফকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন সাকিব। এরপর ২৬ রান যোগ হতে আরও ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে দলটি। ১৩ বলে ২৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে যা একটু চেষ্টা করেন মিরাজ।

শেষ ১২ বলে ৩২ রান দরকার ছিল চট্টগ্রামের। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে ক্যাচ মিসে ২ রান তোলেন লোয়ার অর্ডার ব্যাটার মৃত্যুঞ্জয়। পরের বলে সিঙ্গেল নিয়ে শরিফুল ইসলামকে স্ট্রাইক দেন তিনি। মেহেদী হাসান রানার পরের দুই বলে যথাক্রমে ছক্কা ও চার হাঁকিয়ে শরিফুল বড় স্বপ্ন দেখান চট্টগ্রামকে। কিন্তু ওভারের পঞ্চম বলে তাকে ইরফান শুক্কুরের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন রানা। শেষ ওভারে তাদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৮ রান। কিন্তু নাসুম আহমেদের উইকেট হারিয়ে ওই ওভারে মাত্র ৩ রান তুলতে পারে চট্টগ্রাম।

বল হাতে সাকিব ও মুজিব দুজনেই ৩টি করে উইকেট তুলে নিয়েছেন। মুজিব আবার ৪ ওভারে খরচ করেছেন মাত্র ৯ রান। এছাড়া ২টি করে উইকেট নিয়েছেন রানা ও ব্র্যাভো।

এটিভি বাংলা/শুভ্র


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *